Skip to main content

একটি রাস্তার গল্প



আজকে আমি আপনাদেরকে একটি রাস্তা সম্পর্কে বলবো। নিশ্চয় ভাবছেন,‘রাস্তা নিয়া আবার পোস্ট দেয়নি কেউ?’ ব্যাপারটা হচ্ছে এটা খুবই ইন্টারেস্টিং একটা রাস্তা। রাস্তার এই মাথা থেকে ঐ মাথা পর্যন্ত যাওয়াটাই একটা এক্সপেরিয়েন্স যা জীবনে একবার হলেও নেয়া উচিত।



রাস্তাটা সীতাকুন্ড আর হাজারিখীলকে সংযুক্ত করেছে,এটি বারৈয়ারঢালা আর হাজারিখীল দুই বনাঞ্চলের মধ্যে পরেছে। সীতাকুন্ডের দিকে এর প্রথম কিছু অংশ পাকা হলেও বাকি পুরোটাই কাচা পায়ে হাটাপথ। মূলত পাহাড়িরা বাশ ও অন্যান্য সামগ্রী একপাশ থেকে অন্যপাশে আনা-নেয়ার জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করে।এর পুরোটাই পাকা করে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে গাড়ি চলাচলের উপযোগী রাস্তা করার কথা ছিলো কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, সম্প্রতি হাইকোর্ট এই রাস্তা তৈরী বন্ধ করার জন্য রায় দিয়েছে।
যাই হোক,এই রাস্তা সম্পর্কে বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে,এটি চেনা থাকলে আপনি নিশ্চিন্তে দুইদিন একরাতের একটি ট্যুর দিয়ে ফেলতে পারবেন। অনেকেই দেখছি সীতাকুন্ডের হোটেলের বেহাল অবস্থা আর আকাশচুম্বী দাম নিয়ে বিভিন্ন পোস্টে লিখছেন। আপনি যদি এইরাস্তা ধরে সীতাকুন্ড থেকে হাজারিখীল চলে যান তাহলে খুবই কম খরচে রাতে ক্যাম্পিং করে থাকতে পারবেন,সাথে ভালো খাবারের ব্যবস্থাও আছে। অনেকেই ক্যাম্পিং শুনলেই ওয়াশরুম নিয়ে চিন্তায় পরে যান। ভাববেন না,হাজারিখীল ক্যাম্প গ্রাউন্ডের পাশে ভালো ওয়াশরুম আছে।



সীতাকুন্ডের দিক থেকে যেতে হলে আপনাকে শুরু করতে হবে বড় দারোগারহাট থেকে ১ কিমি দক্ষিণের নারায়ণ আশ্রমের রাস্তা দিয়ে। বাসে গেলে গুগল ম্যাপ দেখে সরাসরি রাস্তার মাথায় নামতে পারবেন আর ট্রেনে গেলে সীতাকুন্ড বাজার থেকে লেগুনায় করে রাস্তার মাথায় নামতে পারবেন (রাস্তার মাথায় আপনি বারৈয়ারঢালা জাতীয় উদ্যানের সাইনবোর্ড আর উল্টাদিকে হাক্কানি ফুয়েল পাম্প দেখতে পাবেন)। রাস্তাদিয়ে সোজা হাটতে থাকলে রেললাইন,বনবিভাগের অফিস এগুলি পার হয়ে ধীরে ধীরে পাহাড়ের মধ্যে ঢুকে যাবেন। মূলরাস্তা ধরে হাটতে থাকলে আপনি মোটামুটি দুই ঘন্টার মধ্যে হাজারিখীল পৌছে যাবেন। হাটাহাটির অভ্যাস না থাকলে অনেকের কাছে দুইঘন্টা হাটা অনেক কিছু মনে হতে পারে,কিন্তু আসলে সুস্থ স্বাভাবিক কারো জন্য এইটা কোন বিষয়ই না। পাহাড়িরা কাধে ১০০ বাশ নিয়ে এইপথ ধরে এসে সেগুলো বিক্রি করে আবার ফেরত যায়। মূলরাস্তা ধরে হাটলেই হবে,রাস্তা হারানোর ভয় নেই। তবে এক জায়গায় একটু উচু একটা অংশ আছে,খুব কঠিন কিছু না।



রাস্তার দুইপাশের পাহাড়গুলি গাছপালা,বন-জঙ্গলে ভর্তি, পুরোটা রাস্তা আপনি শুধু সবুজ আর সবুজ দেখবেন। রাস্তার সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে করতে হাটতে হাটতে আপনি ক্লান্ত হয়ে গেলেও সেটা খারাপ লাগবে না। বিশ্রাম নিয়ে ছবি তুলতে তুলতে হাটলেও আপনি আড়াই ঘন্টার মধ্যে হাজারিখীল পৌছে যাবেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে,এই রাস্তার দুইপাশে পরিচিত চার-পাচটি ট্রেইল আছে,সবগুলিতেই কয়েকটা করে ঝর্ণা আছে। সবগুলি থেকেই ছোট ছোট পাহাড়ি রাস্তা এসে এই মূল রাস্তার সাথে লেগেছে। যাওয়ার পথে হাতের বামদিকে পরবে বড় কমলদহ ট্রেইল আর ডানদিকে প্রথমে পরবে মধুখাইয়া-মইষাছড়া ট্রেইল এরপর পরবে সহস্রধারা-২ ঝর্ণা আর লেকের যাওয়ার রাস্তা সাথে লেকের বামপাশের ঝর্ণার ট্রেইল। তো আপনি চাইলে যে কোন একটা ট্রেইল ঘুরে সোজা হাজারিখীল গিয়ে রাতটা তাবুতে থেকে পরদিন অন্যকোন ট্রেইল দিয়ে ফেরত আসতে পারেন। ধরা যাক,বড় কমলদহ দিয়ে ঢুকলেন,ঘুরে উপরদিক দিয়ে রাস্তায় উঠে হাজারিখীল গেলেন। পরদিন সহস্রধারা-২ লেক,ঝর্ণা আর আশপাশ দেখে ফেরত আসলেন।



হাজারিখীলে দুইজনের এক তাবু অফসিজনে ৩০০ টাকা আর সিজনে ৬০০ টাকায় ভাড়া পাবেন,রাতের খাবার পাবেন প্রতিজন ১৩০ টাকায় আর গাইড চার্জ দিতে হবে ৫০০ টাকা, গাইডের খাওয়ার খরচও আপনাদের দিতে হবে। অর্ডার করলে সকালের নাস্তাও পাওয়া যাবে।

*** এইরাস্তায় কোন পানির উৎস পাবেন না। তাই সাথে অবশ্যই পানি রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
*** রাস্তায় পাহাড়িদের সাথে খারাপ আচরণ করবেন না এবং তাদের ভাষা,সংস্কৃতি,পোশাক স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবেন।
*** যাওয়ার আগে অবশ্যই দশবার চিন্তা করে যাবেন, যেই পানির বোতল,চিপস,চানাচুর,বিস্কুট,কেক আপনি নিয়ে যাচ্ছেন সেগুলোর খালি প্যাকেট,খালি বোতল বহন করে ফেরত আনার শারিরীক সক্ষমতা আপনার আছে কি-না। যদি আপনার মনে একবারও আসে যে,এগুলা নিয়ে আসা খুবই কঠিন ব্যাপার হবে,তাহলে কোনভাবেই নিজের সাথে খাবার এবং পানি নিয়ে যাবেন না। এমনকি আপনি নিজেও না গেলে সবার জন্য মঙ্গল।

Comments